প্রিয় আনিসুল হক,
আজকের প্রথম আলোতে দুর্নীতি নিয়ে আপনার একটি লেখা ছাপা হয়েছে । এই লেখায় আপনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন - মানুষের কত টাকা লাগে ? মানুষ কেন দুর্নীতি করে ? এই প্রশ্ন দুটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং আমি নিশ্চিত যে এই ধরনের প্রশ্ন আগেও তোলা হয়েছে । এই বিষয়ে আমার নিজস্ব কিছু ধারনা আছে । আমি নিতান্তই সামান্য মানুষ । আমার বিশ্লেষণ, সরল বিশ্লেষণ । তবু আপনার লেখার প্রেক্ষিতে আমার ধারনাগুলো উপস্থাপন করছি।
সাত আট বছর আগে, আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে অদ্ভুত এক ধরনের শ্রেনী বিন্যাস ছিল । একদম সহজ ভাষায় এই বিন্যাস ধনী ও গরীবের। আমার সহপাঠীদের একটি অংশ এসেছিলো বিত্তবান পরিবার থেকে। এরা ঢাকা শহরে স্থায়ী বাসিন্দা । ভার্সিটিতে আসত গাড়িতে চড়ে । হুটহাট করে ফাস্টফুডে চলে যেত, রাশি রাশি টাকা খরচ করত। হাতে থকত দামী মোবাইল ফোন। বোঝা যেত, টাকা খরচের জন্য এদের হিসেব করতে হয় না।
এর বিপরীত চিত্রটি কিন্তু খুব বেদনাদায়ক। ছাত্রছাত্রীদের আরেকটি অংশটি আসত গ্রাম বা মফস্বল থেকে। এরা থাকত বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে। দুপুর বেলা হলের ক্যান্টিনে ছয় টাকা দিয়ে ডাল - ভাত খেত। মাসের খরচ জোগাড় করত টিউশনি করে । এমনকি কেউ কেউ টিউশানি করে বাড়িতে টাকা পাঠাত। মাসের শেষের দিকে গিয়ে এদের খাওয়ার পয়সাই থাকত না, বিলাসী জীবনের তো কোন প্রশ্নই ওঠে না।
আমার বিশ্বাস, আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই চিত্রটির সাথে আপনি নিজেও পরিচিত এবং আশা করি আমার বক্তব্যের সাথে আপনি দ্বিমত পোষণ করবেন না।
এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক । ছাত্র ছাত্রীদের এই দরিদ্র অংশটির একটি সাধারন স্বপ্ন থাকে -বিসিএস বা সরকারী চাকরী। এই সব দরিদ্র ছাত্র ছাত্রীরা জানে যে সৎ থাকলে বিত্ত বৈভবের যে সমৃদ্ধ জীবন, তা তাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে। সৎ থাকলে তাদেরকে আজীবন হয় মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত হয়ে কাটিয়ে দিতে হবে। সৎ থেকে কোন বিলাসী জীবন ছুঁয়ে দেখার উপায় এদেশে নেই। হিসেবটা খুব সহজ - হয় চুরি করে বড়লোক হও অথবা দরিদ্র থাক। আশেপাশের ভোগ বিলাসের জীবন ফেলে রেখে চব্বিশ বছরের কোন যুবক দরিদ্র সন্ন্যাসীর জীবন যাপন করতে পারে না । চুরি করা অন্যায় এ কথা সে জানে। কিন্তু সে এও জানে যে ভাল থাকতে হলে, ঢাকা শহরে গাড়ি আর ফ্ল্যাট থাকতে হলে, ঘরে এসি লাগাতে হলে, দামী একটা ল্যাপটপ কিনতে হলে, ফাস্টফুডের দোকানে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করতে হলে তাকে খারাপ হতে হবে।
বলার কিছু নেই । আমাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠি সমাজের ধনীদের পাশাপাশি অবস্থান করে। ধনীদের সমৃদ্ধ, উন্নত জীবন এরা খুব কাছ থেকে দেখে। বোঝে যে এই বিলাসী জীবন তাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ধনীদের এই ঝলমলে জীবন ছুঁয়ে দেখতে হলে তাদেরকে খারাপ হতে হবে। আশেপাশে হাজারটা বিলাসী পণ্যের হাতছানি - দামী মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, পাজেরো গাড়ি, আলো ঝলমলে ফাস্টফুড শপ । সব কিছু তৈরী, প্রয়োজন শুধু টাকা । সুতরাং দুর্নীতি ছাড়া উপায় কি ? এই সমৃদ্ধ, বিলাসী জীবনের জন্য এক জন অনার্স পড়ুয়া তরুন যখন কাস্টমস অফিসার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তখন আমরা তাকে কি বলে বাধা দেব ?
এই দরিদ্র ছাত্রছাত্রীরা জানে নৈতিকতার বুলি দিয়ে ঢাকা শহরে ফ্ল্যাটের মালিক হওয়া যায় না, পিজা হাটে গিয়ে হাজার টাকা বিল দেয়া যায় না। এই নৈতিকতা বছরের পর বছর তাদেরকে দারিদ্র্য ছাড়া যার কিছু দিতে পারেনি। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন হচ্ছে পশুর জীবন। এই পশু জীবন থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় দুর্নীতি। সুতরাং হাতের কাছে কোটি কোটি টাকা রেখে সে কতদিন হাত গুটিয়ে বসে থাকবে।
আপনি একটু খোঁজ করলেই দেখতে পাবেন আমাদের উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মচারীদের বেশিরভাগই এসেছে কোন নিম্ন -মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। বছরের পর পর দ্রারিদ্র্যের সাথে যুদ্ধ করার পর তারা পেয়েছে টাকার খনির সন্ধান। এই সুযোগ তারা হাতছাড়া করবে কেন ? আমাদের বেশির ভাগ রাজনৈতিক নেতাদের জন্যও ঐ একই কথাই প্রযোজ্য। আসলে আমাদের দেশের শতকরা আশি ভাগ মানুষের জন্যই এই কথা সত্যি। এরা জানে দারিদ্র্য একটি দুর্বিষহ ব্যাপার ।
আমার এই বক্তব্য কিছুটা একপেশে মনে হতে পারে। মনে হতে পারে আমি দুর্নীতিবাজদের পক্ষে সাফাই গাইবার চেষ্ট করছি । প্রকৃতপক্ষে, আমি এই সমস্যাটির গভীরে যাবার চেষ্টা করেছি এবং নিজের অভিজ্ঞতাকে এই সমস্যাটির সাথে মিলিয়ে দেখতে চেয়েছি।
এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য আশা করছি। ধন্যবাদ।
শুভেচ্ছান্তে-
প্রবালাহমেদ
Thursday, April 25, 2013
Monday, May 9, 2011
ছুরি হাতে প্রতিটি সন্ত্রাসী এবং প্রতিটি ঊশৃঙ্খল তরুনী একজন বিপ্লবী
কথাটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। কিন্তু আমার তাই মনে হয়।
অস্ত্রের মুখে অন্যের টাকা যে কেড়ে নেয় তাকে সন্ত্রাসী বলা হয়। কাজটা সরল দৃষ্টিতে অন্যায়। কিন্তু সরলতা সব সময় সত্য নয়। অতি সরলতা অনেক সময়ই বিভ্রান্ত করে।
যাদের টাকা পয়সা আছে, খেয়ে পড়ে ভাল থাকে তারা সাধারনত ঝামেলায় যেতে চায় না। নির্ঝঞ্ঝাট জীবন কাটাতে ভালবাসে। এরা অনেক সময়ই বুঝে উঠতে পারে না মানুষ কেন সন্ত্রাসী হয় ।বুঝতে না পারারই কথা।
সমাজ এক ধরনের জেলখানার মত একটি ব্যাপার। উপরতলার কিছু মানুষ সেখানে প্রভু হয়ে বসে আছে। সমাজে থাকতে গেলে তাদের কথা মানতে হয়। মাঝে মাঝে তাদের পা চেটে দিতে হয়। তাহলে বেশ ভাল থাকা যায়। এদের বিরুদ্ধে কিছু বলা যায় না। প্রতিবাদ করার ফলাফল ভয়াবহ।
আমরা বেশিরভাগ মানুষই এই জেলখানা মেনে নিয়েছি।আমরা হচ্ছি আমজনতা। উপরওয়ালাদের পা চেটে দিয়ে ভাল আছি। কিন্তু সবাই ওটা মানতে পারে না। পদলেহনকারী কুকুরের জীবন সবার পছন্দের নয়। এদের কাছে অস্তিত্ব রক্ষার চেয়ে মর্যাদা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এরা হয় মাথা উচুঁ করে বাচঁবে আর নয়ত বাঁচবেই না। এরাই মাঝে মাঝে প্রতিবাদের চেষ্টা করে। সমাজে প্রতিবাদীদের জন্য কোন জায়গা নেই। ভিন্নমতের পরিনতি নির্যাতন। উপরওয়ালাদের কথা না মানলে সন্ত্রাসী হতে হয়।
সমাজে বাঁচতে হলে কিছু হলেও টাকা পয়সা লাগে। কিন্তু সেই টাকা ঠিক কীভাবে উপার্জন করা হবে সমাজ তা স্পষ্ট করে বলে না। টাকা উপার্জন না করতে পারলে তুমি খাবার পাবে না কিন্তু টাকা কিভাবে উপার্জন করবে তা আমি জানি না - সমাজের মতটা এরকমই । উপরওয়ালারা আছেন ; তাদের পা চাটলে টাকা পাওয়া যায়। পা চাটতে রাজী না থাকলে টাকা পাবে না। পা চাটতে রাজী হলেও সবাই সে সুযোগ পায় না। পা চাটার সুযোগ পাবার জন্যই প্রচন্ড ভীড়। অসংখ্য মানুষ অপেক্ষায় আছে সেই সুযোগ পাবার জন্য।
এরকম অবস্থায় টাকা উপার্জনের আর একটাই পথ খোলা থাকে - তার নাম অস্ত্র। পা চাটতে না রাজী থাকলে অথবা পা চাটার সুযোগ না পেলে, না খেয়ে মরতে হবে। না খেয়ে মরতে কেউ রাজী নয়। মরার আগে অস্ত্র হাতে সে শেষ চেষ্টাটা করতে চায়। মরবই যখন তখন আর ভয় পাব কাকে? আইন না সমাজ? সন্ত্রাসী হচ্ছে সেই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষ যে পৃথিবীতে টিকে থাকার শেষ চেষ্টা করছে। জন্মের পর থেকে সে দেখছে পৃথিবীর সব সম্পদ দখল করে বসে আছে একদল মানুষ। সেই সম্পদ কেউ এমনি এমনি দিয়ে দেবে না। তাকে জোর করে কেড়ে নিতে হবে। আইনকে তার ভয় পাবার কিছু নেই। কারন উপরওয়ালাদের লাথি খেয়ে, লজ্জায় অপমানে সে প্রতিদিন একটু একটু করে মরে। মৃত্যু তার জন্য নতুন কিছু নয় কারন তার জীবন মৃত্যুর চেয়েও দুর্বিষহ।
একজন উশৃঙ্খল তরুনী একজন বিপ্লবী। উশৃঙ্খল হচ্ছে সে যে সমাজের প্রচলিত প্রথাগুলো মানে না। সেই সমাজ কোন সমাজ ? সেই সমাজ কিছু দিতে পারে না, পারে শুধু নিয়ম জারি করতে। সমাজের নিয়মে তাকে বিয়ে করতে হবে, সংসার করতে হবে। একটা মেয়ে নিজের মত করে বাঁচতে পারবে না। সে বাঁচবে পরিবারের কঠোর নিয়মের মধ্যে। যেন নিয়মই তার আজন্ম নিয়তি। তার পূর্বপুরুষদের তৈরী করা নিয়মই শেষ কথা। নিজের মনকে বাঁচাতে হলে তাকে সমাজের নিয়ম ভাঙতেই হবে। তাতেও বিপত্তি অনেক। সমাজ নিন্দা করে। তবুও সেই নিন্দার দায় মাথায় নিয়েও কেউ কেউ প্রতিবাদ করে। সমাজ ছি ছি করে। আমি বলি বিপ্লবী। আর কিছু না হোক, অন্তত বেঁচে থাকার একটা অর্থ সে খুঁজে পেয়েছে।
জানি অনেকেই আমার সাথে একমত হবেন না। সমাজের যারা সুবিধাভোগী তারা সমাজের নিয়মগুলো পছন্দ করে।এইসব সুবিধাভোগীদের ভাল থাকা নির্ভর করে সমাজের অস্তিত্বের উপর।মানুষ যদি নিয়ম ভাঙতে শুরু করে তাহলে এইসব সুবিধাভোগীদের কী হবে? নিয়ম ভাঙতে দেখলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
তাই নিয়ম ভাঙার সাহস যাদের আছে, তাদেরকে আমার ভালো লাগে। সমাজের এই সমস্ত নিয়ম ভাঙা বিপ্লবীদের জন্য শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা।
অস্ত্রের মুখে অন্যের টাকা যে কেড়ে নেয় তাকে সন্ত্রাসী বলা হয়। কাজটা সরল দৃষ্টিতে অন্যায়। কিন্তু সরলতা সব সময় সত্য নয়। অতি সরলতা অনেক সময়ই বিভ্রান্ত করে।
যাদের টাকা পয়সা আছে, খেয়ে পড়ে ভাল থাকে তারা সাধারনত ঝামেলায় যেতে চায় না। নির্ঝঞ্ঝাট জীবন কাটাতে ভালবাসে। এরা অনেক সময়ই বুঝে উঠতে পারে না মানুষ কেন সন্ত্রাসী হয় ।বুঝতে না পারারই কথা।
সমাজ এক ধরনের জেলখানার মত একটি ব্যাপার। উপরতলার কিছু মানুষ সেখানে প্রভু হয়ে বসে আছে। সমাজে থাকতে গেলে তাদের কথা মানতে হয়। মাঝে মাঝে তাদের পা চেটে দিতে হয়। তাহলে বেশ ভাল থাকা যায়। এদের বিরুদ্ধে কিছু বলা যায় না। প্রতিবাদ করার ফলাফল ভয়াবহ।
আমরা বেশিরভাগ মানুষই এই জেলখানা মেনে নিয়েছি।আমরা হচ্ছি আমজনতা। উপরওয়ালাদের পা চেটে দিয়ে ভাল আছি। কিন্তু সবাই ওটা মানতে পারে না। পদলেহনকারী কুকুরের জীবন সবার পছন্দের নয়। এদের কাছে অস্তিত্ব রক্ষার চেয়ে মর্যাদা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এরা হয় মাথা উচুঁ করে বাচঁবে আর নয়ত বাঁচবেই না। এরাই মাঝে মাঝে প্রতিবাদের চেষ্টা করে। সমাজে প্রতিবাদীদের জন্য কোন জায়গা নেই। ভিন্নমতের পরিনতি নির্যাতন। উপরওয়ালাদের কথা না মানলে সন্ত্রাসী হতে হয়।
সমাজে বাঁচতে হলে কিছু হলেও টাকা পয়সা লাগে। কিন্তু সেই টাকা ঠিক কীভাবে উপার্জন করা হবে সমাজ তা স্পষ্ট করে বলে না। টাকা উপার্জন না করতে পারলে তুমি খাবার পাবে না কিন্তু টাকা কিভাবে উপার্জন করবে তা আমি জানি না - সমাজের মতটা এরকমই । উপরওয়ালারা আছেন ; তাদের পা চাটলে টাকা পাওয়া যায়। পা চাটতে রাজী না থাকলে টাকা পাবে না। পা চাটতে রাজী হলেও সবাই সে সুযোগ পায় না। পা চাটার সুযোগ পাবার জন্যই প্রচন্ড ভীড়। অসংখ্য মানুষ অপেক্ষায় আছে সেই সুযোগ পাবার জন্য।
এরকম অবস্থায় টাকা উপার্জনের আর একটাই পথ খোলা থাকে - তার নাম অস্ত্র। পা চাটতে না রাজী থাকলে অথবা পা চাটার সুযোগ না পেলে, না খেয়ে মরতে হবে। না খেয়ে মরতে কেউ রাজী নয়। মরার আগে অস্ত্র হাতে সে শেষ চেষ্টাটা করতে চায়। মরবই যখন তখন আর ভয় পাব কাকে? আইন না সমাজ? সন্ত্রাসী হচ্ছে সেই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষ যে পৃথিবীতে টিকে থাকার শেষ চেষ্টা করছে। জন্মের পর থেকে সে দেখছে পৃথিবীর সব সম্পদ দখল করে বসে আছে একদল মানুষ। সেই সম্পদ কেউ এমনি এমনি দিয়ে দেবে না। তাকে জোর করে কেড়ে নিতে হবে। আইনকে তার ভয় পাবার কিছু নেই। কারন উপরওয়ালাদের লাথি খেয়ে, লজ্জায় অপমানে সে প্রতিদিন একটু একটু করে মরে। মৃত্যু তার জন্য নতুন কিছু নয় কারন তার জীবন মৃত্যুর চেয়েও দুর্বিষহ।
একজন উশৃঙ্খল তরুনী একজন বিপ্লবী। উশৃঙ্খল হচ্ছে সে যে সমাজের প্রচলিত প্রথাগুলো মানে না। সেই সমাজ কোন সমাজ ? সেই সমাজ কিছু দিতে পারে না, পারে শুধু নিয়ম জারি করতে। সমাজের নিয়মে তাকে বিয়ে করতে হবে, সংসার করতে হবে। একটা মেয়ে নিজের মত করে বাঁচতে পারবে না। সে বাঁচবে পরিবারের কঠোর নিয়মের মধ্যে। যেন নিয়মই তার আজন্ম নিয়তি। তার পূর্বপুরুষদের তৈরী করা নিয়মই শেষ কথা। নিজের মনকে বাঁচাতে হলে তাকে সমাজের নিয়ম ভাঙতেই হবে। তাতেও বিপত্তি অনেক। সমাজ নিন্দা করে। তবুও সেই নিন্দার দায় মাথায় নিয়েও কেউ কেউ প্রতিবাদ করে। সমাজ ছি ছি করে। আমি বলি বিপ্লবী। আর কিছু না হোক, অন্তত বেঁচে থাকার একটা অর্থ সে খুঁজে পেয়েছে।
জানি অনেকেই আমার সাথে একমত হবেন না। সমাজের যারা সুবিধাভোগী তারা সমাজের নিয়মগুলো পছন্দ করে।এইসব সুবিধাভোগীদের ভাল থাকা নির্ভর করে সমাজের অস্তিত্বের উপর।মানুষ যদি নিয়ম ভাঙতে শুরু করে তাহলে এইসব সুবিধাভোগীদের কী হবে? নিয়ম ভাঙতে দেখলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
তাই নিয়ম ভাঙার সাহস যাদের আছে, তাদেরকে আমার ভালো লাগে। সমাজের এই সমস্ত নিয়ম ভাঙা বিপ্লবীদের জন্য শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা।
Subscribe to:
Posts (Atom)